আবারও বিতর্কে বিতর্কিত এমপি

0
1573

জামাতে ইসলামীর সাথে সখ্যতার অভিযোগে অভিযুক্ত চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য নেজামুদ্দিন নদভীর বক্তব্য নিয়ে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গণে তোলপাড় চলছে। কেন্দ্র দখলে নেয়া সম্পর্কে নদভীর দেয়া বক্তব্যে চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপ-নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে কিনা এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি প্রার্থীসহ অন্যরা।

বুধবার রাতে চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোছলেম উদ্দিনের বাসায় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নদভী বর্ণনা দেন কিভাবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নেন। তার এই বক্তব্যের ভিডিও ইতোমধ্যেই চট্টগ্রামের রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে শোনা যায়, নদভী বলছেন… “আমি এমনভাবে কেন্দ্রগুলো দখলে নিয়েছিলাম যে লোকজন বলাবলি করছিল, ‘নদভী সাহেব মাওলানা হয়েও গুণ্ডা-সন্ত্রাসীর মত করে নিয়ে নিলেন।’ তারা বলছে, “ওনাকে আলেম মনে করতাম কিন্তু কাজ করেছেন একেবারে সন্ত্রাসীর মত।”

নেজামুদ্দিন নদভী এমপি অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি এমন কোন বক্তব্য দেননি। পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছেন, “এসব ভূয়া। এরকম কোন বক্তব্য আমি দেইনি। আমি মামলা করবো।” তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাকে ছয়টি কেন্দ্রের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। তিনি তা পালন করেছেন মাত্র। দখল বা নিয়ন্ত্রণের কোন প্রশ্নই আসে না।

নদভীর এমন বক্তব্যের পর বিএনপি সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। বলেছে, একজন এমপি হয়ে প্রকাশ্য সভায় তিনি এসব বলতে পারেন না। এটি নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এ বিষয়ে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোছলেম উদ্দিন আহমেদ বলেন, “নদভী সাহেব সভায় বক্তব্য দিয়েছেন। এটি ওনার নিজস্ব বক্তব্য। নির্বাচনী সভায় কর্মীদের উদ্দীপনা বাড়াতে এমন বক্তব্য হয়েই থাকে। তবে সেটি দল বা প্রার্থীর পক্ষের কোন বক্তব্য না। আমি মনে করি, আগামী ১৩ জানুয়ারি চট্টগ্রাম-৮ আসনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হবে। সবাই ভোট দিবে। কোনরকম বিশৃঙ্খলা হবে না।”

বিএনপি ছাড়াও সংসদ সদস্য নেজামুদ্দিন নদভীর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন চ্টগ্রাম-৮ উপ-নির্বাচনের অন্যান্য প্রার্থীরা। বিএনএফ প্রার্থী এসএম আবুল কালাম আজাদ, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ ফরিদ, ন্যাপ মনোনীত প্রার্থী বাপন দাশগুপ্ত ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ এমদাদুল হক আপেল।