ইসি’র ব্যর্থতা ও ভুল সিদ্ধান্ত

সিইসি স্বীকার করলেন কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম

0
1301
শনিবার সকালে উত্তরার আইইএস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে সিইসি কে এম নূরুল হুদা কথা বলেন সাংবাদিকদের সাথে

নির্বাচন কমিশন (ইসি)-এর অযোগ্যতা, ব্যর্থতা ও ভুল সিদ্ধান্তে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম। প্রধান নির্বাচন কমিশনারও (সিইসি) স্বীকার করলেন সকাল থেকে তার দেখা ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি কম ছিল। তবে তিনি আশা করছেন ভোটার উপস্থিতি পরে বাড়বে। ভাটার উপস্থিতি সম্পর্কে সিইসি বলেছেন, এমন ভোট আমরা চাইনি। এখনও চাই না।

সকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ভোটার সিইসি কে এম নূরুল হুদা ভোট দিয়েছেন উত্তরার আইইএস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে। ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন সিইসি।

নির্বাচনী পরিবেশ শান্ত রাখতে প্রার্থী, প্রার্থীদের সমর্থক ও ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান সিইসি। বলেন, ভোটের পরিবেশ শান্ত রাখতে হবে। এ সময় তিনি জানান, সকাল থেকে নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার কথাও উল্লেখ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। পরিবেশ বিঘ্ন সৃষ্টির মত ঘটনা সম্পর্কে বলেন, আমাদের নির্দেশ আছে যদি এমন ঘটনার সৃষ্টি হয় তারা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিবে।

ভোটার উপস্থিতি সম্পর্কে সিইসি বলেন, সকাল থেকে যা দেখলাম, ‘এখন পর্যন্ত (বেলা ১১টা ২০ মিনিট) ভোটার উপস্থিতি ভাল না। এই কেন্দ্রে (তিনি যে কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন) এখন পর্যন্ত ২৭৬ জন ভোটার এসেছে। আশা করি পরে আরও আসবে।’ এই সময় তিনি যোগ করলেন, সকাল থেকে যে কেন্দ্রগুলো দেখেছি, সেখানেও লোকজন কম ছিল।

সিইসি কমিশনের দায় এড়িয়ে বলেন, আমরা ভোটের পরিবেশ তৈরি করেছি। আমরা আমাদের দায়িত্ব পরিপূর্ণভাবে পালন করেছি। রিটার্নিং কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সব কিছু। আমাদের প্রস্তুতির কোন ঘাটতি নেই। যারা প্রার্থী, নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ভোটার আনার দায়িত্ব তাদের বেশি।

উল্লেখ্য, গত দুই সপ্তাহে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অভিযোগ আমলে না নিয়ে নিজেদের দায়সারা উত্তরেই সীমাবদ্ধ ছিল ইসির কার্যক্রম ও বক্তব্য। এছাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না করে উল্টো গণপরিবহন বন্ধ করে ভোটার উপস্থিতি কমাতে পরোক্ষে ভূমিকা রেখেছে কমিশন। এছাড়া, বিদেশি দূতাবাসে কর্মরত ২৮ জন বাংলাদেশিকে বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয় ১০টি দূতাবাস। নির্বাচন কমিশন তা গ্রহণও করে। যা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য অসম্মানজনক। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে।

শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর সিটি কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময়ও বিষয়টির উল্লেখ করেন। বিদেশি দূতাবাসগুলো গর্হিত কাজ করেছে এবং নির্বাচন কমিশন এ তালিকা গ্রহণ করে ঠিক করেনি বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।