ঈদুল আযহা উদযাপন

0
361

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সারাদেশেঈদুল আযহা উদযাপিত হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের কারণে সারাদেশের ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় মসজিদের ভেতরে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে। করোনা মোকাবেলায় ও সংক্রমণ বিস্তার রোধে সরকারের নির্দেশনায় এবার খোলা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি।

বঙ্গভবনের দরবার হলে ঈদের জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।
ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ পরিবারের সদস্য এবং কয়েকজন সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে বঙ্গভবনের দরবার হলে ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করেন।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপ্রধান পরিবারের সদস্য ও কয়েকজন কর্মকর্তাসহ সকাল সাড়ে ৮টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে ঈদের নামাজ আদায় করেন। জামাতে ইমামতি করেন বঙ্গভবন জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতী মাওলানা সাইফুল কবীর।

ঈদুল ফিতরের মত এই ঈদেও জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাত হয়নি। জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানেও। তবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের ৬টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রত্যেক জামাতেই মুসল্লিদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। সকাল ৭টা থাকে প্রতিটি জামাত চলার সময় বিপুলসংখ্যক মানুষকে মসজিদের বাইরে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। মসজিদে জায়গা না পেয়ে দক্ষিণ গেটে বাইরে স্টেডিয়ামের সামনের সড়কে অনেকে নামাজে অংশ নেন।

সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররম মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান। মুকাব্বির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মসজিদের মুয়াজ্জিন হাফেজ ক্বারি কাজী মাসুদুর রহমান।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, ধর্ম সচিব নূরুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা এসএম ইমদাদুল হক, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ, ডিএসসিসি সচিব আকরামুজ্জামান ডিএসসিসি মেয়রের সাথে ঈদের প্রথম জামাতে নামাজ আদায় করেন।

এরপর পর্যায়ক্রমে বেলা ১১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত আরও পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

প্রত্যেক নামাজ শেষে অনুষ্ঠিত মোনাজাতে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করা হয়। পাশাপাশি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও নিহতদের জন্য দোয়া করা হয়।

ঈদের নামাজ শেষে করোনার সংক্রমণ রোধে সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুসল্লিরা কোলাকুলি করা থেকে বিরত থাকেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঈদুল আযহার জামাত সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ- মসজিদুল জামিআয় অনুষ্ঠিত হয়। এই জামাতে ইমামতি করেন মসজিদের সিনিয়র ইমাম খতীব ডক্টর সৈয়দ মুহাম্মদ এমদাদ উদ্দীন। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল জামে মসজিদে সকাল ৮ টায় ঈদুল আযহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে রাজধানীর গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে ৩টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমটি সকাল ৬টা, দ্বিতীয়টি ৮টায় এবং তৃতীয়টি ১০টায় অনুষ্ঠিত হয়।

রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদের নামাজ আদায় করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ডক্টর বেনজীর আহমেদ।

পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা জানান, সামাজিক সুরক্ষা বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাসহ সাধারণ মুসল্লিরাও অংশ নেন।

মিরপুরের কাজীপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ৩টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমটি সকাল ৭টা, দ্বিতীয়টি ৮টা এবং তৃতীয়টি ৮টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়।

মাদ্রাসা-ই-আলিয়া মসজিদ এবং ধানমন্ডি ঈদগাহ মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

লক্ষ্মীবাজার নূরাণী জামে মসজিদে সকাল ৮ টায়, লক্ষ্মীবাজার মিয়া সাহেব ময়দান খানকা শরীফ জামে মসজিদে সকাল ৭ টায়, লালবাগ জে এন সাহা রোডের বায়তুস সালাম জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭ টায় প্রথম ঈদ জামাত। এখানে সকাল সাড়ে ৮ টায় দ্বিতীয় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। লালবাগ গফুর মসজিদে প্রথম জামাত সকাল সোয়া ৮টায় ও দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হয়।

কারওয়ান বাজার আম্বর শাহ জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭ টায়, চকবাজার ইসলামবাগ বড় মসজিদে সকাল ৭ টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এমসজিদে সকাল ৮টা ও ৯টায় আরও দু’’টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

সেগুন বাগিচার মসজিদে নূর-এ সকাল সাড়ে ৭টায়, কামরাঙ্গীরচর জামিয়া নুরিয়া মসজিদে সকাল সাড়ে ৭ টায়, কামরাঙ্গীরচর রহমতিয়া জামে মসজিদে সকাল ৭টায়, আকসা হুজুরপাড়া কামরাঙ্গীরচর মসজিদে সকাল ৭টায়, ডেমরার দারুন-নাজাত সিদ্দিকীয়া মাদরাসা জামে মসজিদে সকাল ৭টায় এবং ডেমরার বড় ভাঙ্গার আল আকসা জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়া মহাখালীর মসজিদে গাউসুল আজমে ৩টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

দেশজুড়ে নামাজ শেষে মুসল্লিরা পশু কুরবানি করেন।