করোনা বিতর্কে কসোভায় সরকারের পতন

0
491

মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে কসোভার রাজনীতিতে। ইউরোপের দেশটিতে ক্ষমতাসীন জোটের এই দ্বন্দ্বে আলবিন কুর্তি সরকারের পতন ঘটলো।

শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্স জানিয়েছে, পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করলে জোট সরকারের পতন নিশ্চিত হয়। সরকারের পতনের ফলে করোনা প্রতিরোধে আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়লো দেশটির নাগরিকেরা।

আলবিন কুর্তি নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীণ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এএফপি জানাচ্ছে, কসোভায় করোনা ভাইরাসে এক ব্যক্তির মৃত্যুর কারণে সরকারের মধ্যে সঙ্কট ঘনীভূত হয়। ইউরোপের সবশেষ স্বাধীন দেশে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তির বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

কসোভার স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, করোনা ভাইরাসের কারণে মারা যাওয়া ব্যক্তি বয়সজনিত নানা জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে কসোভায় প্রথম মারা যাওয়া ব্যক্তি।

এএফপি জানায়, স্বাস্থ্যমন্ত্রী অগিম ভেলিউকে বরখাস্ত করায় ক্ষমতাসীন জোটের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত বরখাস্ত হওয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উত্থাপিত অনাস্থা প্রস্তাবেই সরকারের পতন হয়। প্রায় ১২ ঘন্টা পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক হয়। এরপর বিষয়টি ভোটাভুটিতে গড়ায়। ১২০ জন এমপি’র মধ্যে ৮০ জন সরকারের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জোটের শরীক এলডিকে দলের মনোনয়নে এমপি ও মন্ত্রী হয়েছিলেন। তার দল অভিযোগ করে বলেছে, তাদের দলের একজন মন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী জোটের সাথে আলোচনা না করেই বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যা কোয়ালিশন সরকারের নীতিমালার লঙ্ঘন।

কসোভার প্রেসিডেন্ট হাশিম থাসির দেশে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় জরুরী অবস্থা জারি করেন। প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ফলে প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তি ক্ষুব্ধ হন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ওপর। এর জের ধরেই স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অপসারণ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, শুক্রবার পর্যন্ত দেশটিতে ১৯ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। মাত্র ২০ লাখ মানুষের দেশ কসোভা।