করোনা: বেড়েছে পরীক্ষার হার ও আক্রান্ত

0
688

গত ২৪ ঘন্টায় দেশে আরও ৭ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২৭। বর্তমানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ৪ হাজার ১৮৬ জন। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ৪১৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। গতকালের চেয়ে আজ আক্রান্ত বেড়েছে ২৪ জন। গতকাল আক্রান্ত হয়েছিল ৩৯০ জন।

দেশে গত ২৪ ঘন্টায় ১৬ জন করোনামুক্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছেন ১০৮ জন।

দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন লাইভ ব্রিফিংয়ে নিজ বাসা থেকে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক এসব তথ্য জানান। অধিদপ্তর থেকে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার নাসিমা সুলতানা করোনার সর্বশেষ পরিস্থিতি উপস্থাপন করেন।

ডাক্তার নাসিমা সুলতানা জানান, করোনা ভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৩ হাজার ৯২১টি। দেশের ২১টি পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩ হাজার ৪১৬টি। গতকালের চেয়ে নমুনা সংগ্রহের হার ২৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং নমুনা পরীক্ষার হার আগের দিনের চেয়ে ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৬ হাজার ৯০টি।

জাহিদ মালেক বলেন, কোনো হাসপাতালই লকডাউন করা হয়নি এবং হবে না। অন্যান্য হাসপাতালে স্বাভাবিক চিকিৎসা বজায় আছে এবং থাকবে। আমাদের সকল হাসপাতালে যেসব ওষুধ সরকার দিয়ে থাকে, সেগুলো সরবরাহ এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

ডাক্তার নাসিমা সুলতানা জানান, নতুন করে আরও ৩টি জেলায় করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে। ফলে মোট আক্রান্ত জেলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮টিতে। নতুন আক্রান্ত ৩টি জেলা খুলনা বিভাগের। এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের ৮৫ দশমিক ২৬ শতাংশ রাজধানী ঢাকা ও ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। ৪৫ দশমিক ৫১ শতাংশ ঢাকা নগরের বাসিন্দা। ঢাকা বিভাগের অন্যান্য জেলা মিলিয়ে এ সংক্রমণের হার ৩৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ। মোট আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ৬৮ শতাংশ ও নারী ৩২ শতাংশ।

তিনি বলেন, দেশে করোনা ভাইরাসের সামাজিক সংক্রমণ ঘটেছে। যখন কোথাও সংক্রমণ ঘটলে এর উৎস জানা যায় না বা আক্রান্ত ব্যক্তি কিভাবে সংক্রমিত হলেন তা বোঝা যায় না, তখন সে অবস্থাকে সামাজিক সংক্রমণ বলে। বাংলাদেশ এখন সংক্রমণের তৃতীয় ধাপে রয়েছে।

অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ৫ জন, নারী ২ জন। মৃতরা সবাই ঢাকার ভিতরের। এদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ৪ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ২ জন এবং ৪১ থেকে ৫০ এর মধ্যে ১ জন।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ১২৩ জনকে। এখন পর্যন্ত আইসোলেশনে আছেন ৯৯৫ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৮ জন। এপর্যন্ত মোট ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬২২ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৩ হাজার ৪২৯ জন। এখন পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৪৬৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৫৪৮ জন। এনিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৭ হাজার ৮৮৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মোট কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয় ৩ হাজার ৯৭৭ জনকে। মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৫০ জনকে কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে। কোয়ারেন্টাইন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড় পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৪১ জন। এখন পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন ৮৪ হাজার ১৭ জন। বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৭৭ হাজার ৯৫৮ জন। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৬ হাজার ৩৭৫ জন। এখন পর্যন্ত মোট কোয়ারেন্টাইন ৮৪ হাজার ৩৩৩ জন।