চামড়ার দামে বিপর্যয়; দায় কার?

0
489

জাহাঙ্গীর আলম; মুক্তমত: কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে আবারও বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিক্রি করতে না পেরে অনেকে পথের পাশেই ফেলে গেছেন চামড়া। দাম না পেয়ে এবারও নদীতে ফেলে দেয়া, মাটিতে পুঁতে রাখার ঘটনাও ঘটেছে।

দেশে বড় গরুর চামড়া সর্বোচ্চ ৫শ’ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর ছাগলের চামড়া ১০ থেকে ২০ টাকা। দাম না পেয়ে রাজশাহীতে ছাগলের চামড়া পদ্মা নদীতে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে। এ বছরও গরু-ছাগলের প্রায় ৩০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সবচেয়ে বেশি চামড়া নষ্ট হচ্ছে চট্টগ্রামে।

এবার চামড়া বেচাকেনায় বিপর্যয় ঠেকাতে সতর্ক ছিলো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে দামও নির্ধারণ করে দিয়েছিল। রাজধানীতে লবণযুক্ত গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুটের দাম ধরা হয়েছিল ৩৫-৪০ টাকা। আর রাজধানীর বাইরে ২৮-৩২ টাকা। আর খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১৩ থেকে ১৫ টাকা ও বকরির চামড়া ১০ থেকে ১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। দরপতনের আশঙ্কায়, ঈদের তিনদিন আগে কাঁচা ও ওয়েট-ব্লু চামড়া রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিলো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু কাজের কাজ, লাভ কিছুই হয়নি।

ঈদের দিন সকালেই চামড়ার দর বিপর্যয়ের ইঙ্গিত মেলে। রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় চামড়া বিক্রি করতে এসে বিপাকে পড়েন কোরবানিদাতারা। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, প্রত্যাশিত মূল্যের অর্ধেকও পাননি অনেকে। গরুর পুরো চামড়া দুই থেকে তিনশ টাকা আর ছাগলের চামড়া ১৫ থেকে ২০ টাকায় কেনেন ট্যানারি মালিক ও চামড়া ব্যবসায়ীরা।

সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া বেচনাকেনা না হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন কোরবানিদাতা ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। তারা আড়তদার ও ট্যানারি মালিকদের সিন্ডিকেটকে দায়ী করেছেন এ পরিস্থিতির জন্য। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আড়তদাররা। তারা বলছেন, বাজার বুঝতে না পারার কারণেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। চামড়ার পরিমাপ সম্পর্কেও তাদের যথাযথ ধারণা নেই। নির্ধারিত দামেই চামড়া কিনেছেন তারা।

বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনা না করে অযৌক্তিকভাবে দাম নির্ধারণ করাকে বাজার ধসের অন্যতম কারণ বলছেন আড়ত মালিকদের সংগঠন, বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আফতাব খান। সেই সাথে মাঠপর্যায়ে পানির দরে চামড়া কেনা, আড়তে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়া, নগদ টাকার সংকট ও বৈরী আবহাওয়াকে দায়ী করেন তিনি।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ জানান, চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত না হওয়ায় বাজারে প্রভাব পড়েনি। বৈশ্বিক মহামারী পরিস্থিতিতে হঠাৎ এই সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক বাজার ধরা অসম্ভব।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে উৎপাদিত চামড়ার প্রায় অর্ধেকই পাওয়া যায় কোরবানি ঈদের সময়। প্রতি বছর ১ কোটি ৬৫ লাখ পিস চামড়া থেকে মোটামুটি ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। এ বছর কোরবানির গরু, ছাগল ও মহিষ মিলিয়ে ৬০ থেকে ৭০ লাখ পিস সংগ্রহ হবে। যা গেলো বছর থেকে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ পিস কম।

লেখক পরিচিতি: জাহাঙ্গীর আলম; সাংবাদিক