জনগণ নয়, স্বার্থরক্ষা হলো পরিবহন নেতাদের

0
523

পরিবহন খাতের মালিক-শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষা করে বাড়ানো হলো বাসের ভাড়া। পরিবহন সেক্টরের নেতাদের দাবির মুখে বাড়লো গণপরিবহনের ভাড়া। করোনাকালে ভাড়া ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করে জারি করা হয়েছে প্রজ্ঞাপন।

রোববার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এ প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, শর্ত সাপেক্ষে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাস চলাচল করতে পারবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ধারা ৩৪ এর ২ এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে করোনা ভাইরাসজনিত রোগের (কোভিড-১৯) বিস্তার রোধকল্পে শর্তসাপেক্ষে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকল্পে সরকার আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লায় চলাচলকারী (ঢাকা মহানগর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা এবং চট্টগ্রাম মহানগরসহ) বাস ও মিনিবাসের সর্বোচ্চ ভাড়া নিম্নোক্তভাবে পুণঃর্নিধারণ করল:

(ক) আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লা রুটে বাস বা মিনিবাস চলাচলের ক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ২০১৬ সালের ৩ মে প্রজ্ঞাপনমূলে উল্লেখিত বিদ্যমান ভাড়ার (যাত্রীপ্রতি কিলোমিটার সর্বোচ্চ ১ টাকা ৪২ পয়সা) ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হলো।

(খ) ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে বাস বা মিনিবাস চলাচলের ক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ২০১৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বরে প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত বিদ্যমান ভাড়ার (ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলরত বাস ও মিনিবাসের সর্বোচ্চ ভাড়া প্রতি যাত্রী প্রতি কিলোমিটার যথাক্রমে ১ টাকা ৭০ পয়সা ও ১ টাকা ৬০ পয়সা। বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ভাড়ার বিদ্যমান হার ৭ টাকা ও ৫ টাকা) ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি।

(গ) ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটির (ডিটিসিএ) আওতাধীন জেলার (নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা জেলা) অভ্যন্তরে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাস উভয় ক্ষেত্রে ভাড়ার হার প্রতি যাত্রী প্রতি কিলোমিটার ১ টাকা ৬০ পয়সার ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি।

এ জন্য কিছু শর্ত দেয়া হয়, শর্তাগুলি হলো:

১. একজন যাত্রীকে বাস বা মিনিবাসের পাশাপাশি দুইটি আসনের একটি আসনে বসিয়ে অপর আসনটি অবশ্যই ফাঁকা রাখতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি অনুসারে শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটে উল্লেখিত মোট আসন সংখ্যার অর্ধেকের বেশি যাত্রী বহন করা যাবে না এবং দাঁড়িয়ে কোনো যাত্রী বহন করা যাবে না।

২. বর্ণিত প্রজ্ঞাপনদ্বয়ে উল্লখিত ভাড়ার বিদ্যমান হারে প্রচলিত ভাড়ার চার্টে বর্ণিত ভাড়ার সাথে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ভাড়া বৃদ্ধির হার যোগ করে নতুন ভাড়া নির্ধারিত হবে।

৩. স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণপূর্বক বাস বা মিনিবাস পরিচালনা করতে হবে।

৪. অনুমোদিত ভাড়ার হার করোনাভাইরাসজনিত (কোভিড-১৯) সংকটকালের জন্য প্রযোজ্য হবে। এ সংকট দূর হলে প্রজ্ঞাপনদ্বয়ের বিদ্যমান হারের ভাড়া পুণঃপ্রযোজ্য হবে।

জনস্বার্থে জারিকৃত এ ভাড়ার হার আগামীকাল ১ জুন ২০২০ থেকে কার্যকর হবে।

রাজধানীর বাস যাত্রীরা বলছেন, বাস মালিক শ্রমিকরা সরকার নিধারিত ও নিয়মে ককনোই ভাড়া আদায় করেনি। এবারও করবে না। রাজধানীতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরাই গণপরিবহনে যাতায়াত করে। সরকার গুটি কয়েক বাস মালিকের ক্ষতি পোষাতে গিয়ে লাখ লাখ মানুষকে আরও বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

অনেক যাত্রী বলেছেন, আগের কিলোমিটার প্রতি নির্ধারিত ভাড়া মানা হয়নি। এখন সে ভাড়ার ওপর ৬০ শতাংশ বৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে, যাত্রীরা কি ক্যালকুলেটর নিয়ে হিসাব করে ভাড়া দিবে?

কোন কোন যাত্রী বলছেন, পরিবহন খাতের নৈরাজ্যই ফুটে উঠেছে বাসভাড়া বৃদ্ধির এই ঘোষণায়। তাদের কাছে সবাই জিম্মি।

উল্লেখ্য, সীমিত আকারে গণপরিবহন চালুর বিষয়ে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) শুক্রবার বাস মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সাথে বৈঠক করে। বৈঠকে নেতারা ৮০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জানায়। শনিবার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে জানিয়ে বৈঠক শেষ করা হয়। শনিবার বিআরটিএ-তে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শ্রমিক নেতাদের দাবি অনুযায়ী ভাড়া বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। সেই সুপারিশেরভিত্তিতে আজ (রোববার) ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।