জীবন, নাকি জীবিকা?

0
434

শওগাত আলী সাগর: ৫০ জন পর্যন্ত লোকজন একত্রিত হতে পারা মানে হচ্ছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের শুরু দিকে যাওয়া। অন্টারিও ৫ জন থেকে ৫০ জনের সমাগমের অনুমতি দেয়া নিয়ে কাজ করছে- এমন একটি গুঞ্জন শোনা গিয়েছিলো। আজ (বুধবার, ২৭ মে) প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড জানিয়েছেন, প্রভিন্সে জরুরী অবস্থার মেয়াদ ৯ জুন পর্যন্ত বাড়ছে।তার মানে হচ্ছে, একই ছাদের নীচে বসবাসকারী ৫ জনের বেশি একত্রিত হ্ওয়া যাবে না।
অন্টারিও যখন এই ঘোষণা দেয়, তখন বাংলাদেশ থেকে খবর আসে সাধারণ ছুটি আর বাড়ছে না। সীমিত পরিসরে গণপরিবহণ চলাচলেরও অনুমতি দেয়া হয়েছে।
টরন্টোয় বসে যখন প্রিমিয়ার ডাগফোর্ডের ঘোষনা শুনি বাংলাদেশের তখন রাত। টরন্টোয় দিনের শুরু । হঠাৎ মনে হয়, তাই তো! দিন আর রাত্রির ব্যবধান যে দুটি দেশে, সেখানে ভাইরাস মোকবেলার পদ্ধতি তো ভিন্নই হবে।
কানাডার বিভিন্ন প্রভিন্সই এখন সব কিছু খুলে দেয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে, অন্টারিও তার ব্যতিক্রম নয়। খুলতে গিয়ে হঠাৎ খানিকটা থমকে দাঁড়িয়েছে অন্টারিও। কেন? সামার উপভোগ করতে গত সপ্তাহে হাজারখানেক মানুষ পার্কে জমায়েত হয়েছিলো, সেখানে স্বাস্থ্যবিধি লংঘিত হয়েছে সেজন্য? এর আগে মাদারস ডে-তে টরন্টোনিয়ানরা বাড়ী বাড়ী পার্টি করেছিলো সে জন্য?

প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড বলেছেন, নাগরিকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বাজি ধরতে চান না। পার্কে জমায়েতের দিন থেকে হিসেব করে দিন গুনবেন তিনি তিনি, কারো উপসর্গ দেখা দিলে কিংবা না দিলেও করোনার টেস্ট করার জন্য নাগরিকদের আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি।
বাংলাদেশেও হাজার হাজার মানুষ ঈদে গ্রামে ছুটে গেছে। স্বাস্থ্যবিধি লংঘিত হয়েছে। ঈদের মৌসুম শেষ হতে না হতেই ছুটি না বাড়ানোর ঘোষনা এসেছে। বাংলাদেশ সরকারের নীতি নির্ধারকদের নিশ্চয়ই কোনো যুক্তি আছে, ব্যাখ্যা আছে। মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে নিশ্চয়িই সরকার জুয়া খেলছে না! তা হলে যুক্তিটা কি? অর্থনীতি? জীবন আর জীবিকার বিতর্কে বাংলাদেশ কি তা হলে জীবিকাকেই গুরুত্ব দিচ্ছে, জীবনের চেয়ে! হবে হয় তো। কিংবা অন্য কিছু।
টরন্টোয় যখন দিন, জন্মভূমি বাংলাদেশের তখন রাত। টরন্টোয় দিন বাড়তে থাকে, ঢাকায় রাত তখন গভীর হয়। এই বৈপরীত্বের কি কোনো তূলনা হয়? হয় না!

লেখক পরিচিতি: কানাডা প্রবাসী সাংবাদিক; প্রকাশক, নতুন দেশ