দৃশ্যমান হলো পদ্মাসেতুর সাড়ে ৪ কিলোমিটার

0
288
ফাইল ছবি

পদ্মাসেতুর ৩১তম স্প্যান “৫-এ” স্থাপিত হয়েছে। সেতুর সবশেষ নির্মাণ করা খুঁটি ২৬ এবং ২৫ নম্বর খুঁটিতে বসছে এই স্প্যান।

এই দুই খুঁটির মাঝামাঝি শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটের চ্যানেল। ৩ হাজার ১৪০ মেট্রিক টন ওজনের ১৫০ মিটার দীর্ঘ স্প্যানটি স্থাপনে নিরাপত্তার স্বার্থে ৮ ঘন্টার জন্য এই নৌরুট বন্ধ রাখা হয়।

বিআইডব্লিউটিসি’র শিমুলিয়া ঘাটের এজিএমস শফিকুল ইসলাম জানান, এই ৮ ঘন্টায় বিকল্প রুটে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরি রুটে চলাচলে ব্যবহৃত হয়েছে। খবর: বাসস।

৩১তম স্প্যানটিই জাজিরা প্রান্তের শেষ স্প্যান। এটি স্থাপনের মধ্য দিয়ে সেতুর বিশেষ একটি ধাপ সম্পন্ন হলো। এতে বসে যাওয়া ৩১তম স্প্যানের মধ্যে ২৯টি স্প্যান এক সাথে যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ জাজিরা থেকে এই স্প্যান যুক্ত হয়ে মাওয়ার কাছাকাছি চলে এসেছে।

জানা গেছে, সেতুর ৪২টি খুঁটির মধ্যে ৪২তম খুঁটি থেকে ১৩তম খুঁটি পর্যন্ত এটি বন্ধন তৈরি করেছে। শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি ব্যস্তততম নৌ রুটের কারণে ২৬তম খুঁটি স্থাপানে বিলম্ব হয়।

সেখানেও বিকল্প চ্যানেল কেটে দিয়ে খুঁটিটি স্থাপন করতে হয়েছিল। বর্ষা মৌসুমে জাজিরার ৪২তম খুঁটি থেকে মাওয়ার ১৩তম খুঁটি এলাকা পর্যন্ত লাখ লাখ ঘন ফুট পলি পড়ে নব্যতা সৃষ্টি হয়। তাই ভরা বর্ষার আগেই এই স্প্যান স্থাপন করা না গেলে নাব্যতা সঙ্কটের বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হতো।

বর্ষার পলি আসার আগেই এই স্প্যান স্থাপন করা হলো। এখন মাওয়া প্রান্তে আর মাত্র ১০টি স্প্যান বসানো বাকী থাকছে। যা ভরা বর্ষায়ও খুঁটির ওপর বসাতে নাব্যতা বাঁধা হতে পারবে না। কারণ মাওয়ার এই অংশে মূল পদ্মা। সবসময় স্রোত বইতে থাকে। তাই এখানে পলি জমতে পারে না। এই অংশের ৫, ৬ ও ৭ নম্বর খুঁটিতে দুইটি স্প্যান বসেছে আগেই। এখন এই দুই স্প্যানের দু’পাশে বাকী ১০ স্প্যান বসে গেলেই পদ্মা সেতুর ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৃশ্যমান হবে। কয়েক মাসের মধ্যেই এই স্প্যান বসিয়ে দেয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।

পদ্মাসেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান এম আব্দুল কাদের জানান, ৩১তম স্প্যানটি আগামী ১১ জুন বৃহস্পতিবার বসানোর সকল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু ১১ জুন থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত বৈরী আবহাওয়ার কথা জানিয়েছে অবহাওয়া অফিস। তাই কোন রকম ঝুঁকি না নিয়ে একদিন আগে বুধবার এটি বসানোর পরিকল্পা করা হয়।

এর আগে গত ৩১ মে পদ্মাসেতুর ৩০তম স্প্যান খুঁটির ওপর বসানো হয়। স্প্যানটি জাজিরা প্রান্তের ২৬ ও ২৭ নম্বর খুঁটির ওপর স্থাপন করা হয়। এতে দৃশ্যমান হয় সেতুর সাড়ে ৪ হাজার মিটার বা সাড়ে ৪ কিলোমিটার।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সেতুটি দ্বিতল হবে, যার ওপর দিয়ে সড়কপথ ও নিচের অংশে থাকবে রেলপথ। সেতুর এক খুঁটি থেকে আরেক খুঁটির দূরত্ব প্রায় ১৫০ মিটার। একেকটি খুঁটি ৫০ হাজার টন লোড নিতে সক্ষম। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। মূলসেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে চীনের সিনো হাইড্রো করপোরেশন।