ধর্ষক ইস্যুতে কঠোর অবস্থানে কঙ্গনা

ধর্ষকদের পক্ষ নিলেন নারী আইনজীবী ইন্দিরা; ক্ষুধ্ব নির্ভয়ার মা

0
1556
বাঁ থেকে নির্ভয়ার মা আশা দেবী, প্রবীণ আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিংহ ও বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত

ভারতের বর্ষিয়ান নারী আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিংহকে নিয়ে বলিউড সুন্দরী কঙ্গনা রানাওয়াতের বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া। তবে এবার সমালোচনার নয়, ঝড় উঠেছে কঙ্গনার বক্তব্যের পক্ষে। তরুণদের হার্টথ্রব কঙ্গনার ভাষায় ইন্দিরা জয়সিংহের মত নারীরাই রাক্ষসের জন্ম দেন।

শুক্রবার ইন্দিরা জয়সিংহ ট্যুইটারে নির্ভয়ার মা আশা দেবীর প্রতি আহ্বান জানান তার মেয়ের ধর্ষকদের ক্ষমা করে দেয়ার জন্য। এ প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর স্বামী সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর খুনীদের ক্ষমা করে দেয়ার প্রসঙ্গ তুলে ইন্দিরা লিখেন, ‘আমরা আপনার কষ্ট বুঝতে পারছি। আপনার সঙ্গেই রয়েছি। তবে সোনিয়া গান্ধীর যেমন রাজীব গান্ধীর আততায়ী নলিনীকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন, সেই রকম নির্ভয়ার মায়েরও উচিত ধর্ষকদের ক্ষমা করে দেয়া।’

ইন্দিরা জয়সিংহের এই ট্যুইটের পাল্টা জবাব দেন বলিউড নায়িকা কঙ্গনা রানাওয়াত। ইন্দিরার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তাকে ওইসব ধর্ষকদের সাথে চার দিন জেলে রাখা উচিত। তিনি কেমন নারী, যে ধর্ষকদের প্রতি সমব্যথী? তার মত নারীরাই রাক্ষসের জন্ম দেন।’

কঙ্গনার এমন আগ্রাসী বক্তব্যের ভিডিও ইতোমধ্যেই ভারতে ভাইরাল হয়েছে।

দিল্লিতে চলন্ত বাসে ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল ভারতে। ভারতজুড়ে আন্দোলনের ঢেউ উঠেছিল। প্রশাসনের টনক নড়ে তাতে। গ্রেফতার করা হয় ধর্ষকদের।

কোলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে জানানো হয়, শুক্রবার ইন্দিরা জয়সিংহের এমন মন্তব্যের পর গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পরেন নির্ভয়ার মা আশা দেবী। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘কে ইন্দিরা? উনি আমাকে পরামর্শ দেয়ার কে? গোটা দেশ যখন ধর্ষকদের ফাঁসি চাইছে, তখন বুঝতে পারছি তার মত কয়েক জনের জন্যই ধর্ষণের শিকার নারীরা এদেশে যথাযথ বিচার পান না।’

নির্ভয়ার মা জানান, টানা সাত বছর মামলা চলার সময় সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিংহের সাথে তার বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছে। কীভাবে দিন কাটাচ্ছেন তিনি (আশা দেবী), তা একবারও জানতে চাননি ওই নারী আইনজীবী।

আশা দেবী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ধর্ষকদের পক্ষ নিয়েই তাদের রোজগার হয়। তাই ধর্ষণের ঘটনা ভারতে বন্ধ হয় না।’

আশা দেবী বলেন, ‘ধর্ষকদের পক্ষ নিয়েই তাদের রোজগার হয়। তাই ধর্ষণের ঘটনা ভারতে বন্ধ হয় না।’ 

উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টে ধর্ষণ ও হত্যাকারীদের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে। চলতি মাসের ২২ তারিখ সকাল ৭টায় পবন গুপ্ত, মুকেশ সিংহ, বিনয় শর্মা এবং অক্ষয় ঠাকুর সিংহকে ফাঁসিতে ঝোলানোর নির্দেশ দেয় আদালত। কিন্তু আইনি জটিলতায় ২২ জানুয়ারি ফাঁসির রায় কার্যকর করা যায়নি।