ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড: মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন

0
574
ফাইল ছবি

মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেল ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২০’। এতে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা রাখা হয়েছে মৃত্যুদণ্ড। বিচার কাজ শেষ করতে হবে ৬ মাস বা ১৮০ দিনের মধ্যে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, বিচারক বদলি হলেও মামলার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে বৈঠকে যুক্ত হন। মন্ত্রী সভার অন্য সদস্যরা সচিবালয় থেকে সভায় যোগ দেন।

সভা শেষে মন্ত্রি পরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সচিবালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণের বিচার হবে। এমন মামলা ১৮০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে।

মন্ত্রি পরিষদ সচিব বলেন, অনেক সময় বিচার বদলি হয়ে গেলে মামলায় দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হয়। সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী আগের বিচারক মামলা যে অবস্থায় রেখে যাবেন সে অবস্থা থেকেই পরের জন মামলা চালিয়ে যাবেন।

তিনি বলেন, গত কিছু দিনের বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে মাহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয় ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২০’ এর খসড়া অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করে। এতে আইনের ৯(১) ধারায় পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছিল। প্রস্তাবে বলা হয়, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ প্রতিরোধে এ ধারাটি সংশোধন করে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন করা। প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ক্ষতিপূরণের বিষয়ে যেন বিচারকরা নজর দেন সে বিষয়েও বলা হয়েছে। আইনে এক লাখ টাকার কথা বলা আছে। কিন্তু তার বাইরেও ক্ষতিপূরণের বিধান আছে। যেমন, ১৫ ধারায় বলা হয়েছে অর্থদণ্ডের বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি যাতে দণ্ডিত ব্যক্তির থেকে বা তার বিদ্যমান সম্পদ থেকে আদায় করা যাবে, এ সম্পদ আদায় করতে হবে।

তিনি বলেন, এ সংশোধনীর ফলে মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে প্রচারণা চলছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। যারা এমন অপরাধ করবে তারা চিন্তা করবে এমন অপরাধের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ আছে। ফলে সে এমন অপরাধ করার বিষয়ে ভীত থাকবে।