বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহারের দাবি

0
387

করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে মালিক ও শ্রমিকরা পরিবহন চালাতে চালানোর অঙ্গীকার করেন। সরকার তাদের দাবির প্রেক্ষিতে ভাড়া দ্বিগুন করে গণপরিবহন চালানোর অনুমতি দেয়। কিন্তু বাস-মালিক ও শ্রমিকরা সে অঙ্গীকার প্রথম দিন থেকে কোনভাবেই রক্ষা করেননি।

যাত্রী পরিবহনে গাদাগাদি করে আগের মতো ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুন যাত্রী বহন করছে। মাঝে মধ্যে বিআরটিএ ও জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত কিছু অভিযান পরিচালনা করে। তবে গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহন বাধ্য করা সম্ভব হয়নি। তাই করোনাকালে সাধারণ জনগনের জীবন ও জীবিকায় মারাত্মক নেতিবাচক ভোগান্তি ও যন্ত্রণা লাগবে গণপরিবহন বিশেষ করে বর্ধিত দ্বিগুন বাস ভাড়া প্রত্যাহার করে করোনার পূর্বের অবস্থানে আনার জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ও বিআরটিএ’র প্রতি আহবান জানিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর চট্টগ্রাম শাখা।

মঙ্গলবার গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ধারণ ক্ষমতার বেশি যাত্রী পরিবহনের মতো নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি আবারও ফিরে আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করে গণমাধ্যমে দেয়া বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, যুগ্ম-সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম ও ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান।

বিবৃতিতে ক্যাব নেতারা বলেন, বাস মালিক-শ্রমিকরা কোন সময়ই সরকারের নির্ধারিত হারে ভাড়া আদায় করে না। যাত্রীদের জিম্মি করে দ্বিগুন-তিনগুন ভাড়া আদায় করে। সেখানে আইন শৃংখলা বাহিনী ও বিআরটিএ তাদের বিরুদ্ধে কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে আজ পর্যন্ত সক্ষম হয়নি। ঈদ, পুজা বা যে কোন উৎসবে এ দৃশ্য আরও প্রকট হয়। দীর্ঘদিন লকডাউনে থাকায় আয় রোজগার ও কর্মহীন মানুষ এমনিতেই আর্থিক ও মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত, সেখানে বর্ধিত হারে দ্বিগুন বাস ভাড়া আদায় সড়কে ডাকাতির সামিল। যা শিগগিরই বন্ধ করা দরকার।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গণমাধ্যম সুত্রে জানা যায় রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে প্রতিটি রুটে চলাচলকারী বাস-মিনিবাস দৈনিক গড়ে ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিয়ে থাকেন। করোনা মহামারী কালেও এই চাঁদা আদায় বন্ধ হয়নি। সরকার প্রয়োজনে গণপরিবহনগুলির জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানী সরবরাহ করতে পারে।

বিবৃতিতে নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে কোন সংকট ও অজুহাতে গণপরিবহনগুলি বর্ধিত ভাড়া আদায় করলেও স্বাভাবিক সময়ে এই ভাড়া কমানোর কোন দৃষ্টান্ত নেই। দেশের ইতিহাসে দীর্ঘ ছুটিতে থাকায় কর্মহীন মানুষ ভয়াবহ আর্থিক সংকটে আছে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে গণপরিবহনগুলো বিদ্যমান ভাড়া আদায় করে গণপরিবহন সেবা চালু করে মালিক-শ্রমিকদের আয় ও কর্মসংস্থান স্বাভাবিক করা যেতে পারে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।