বাংলাদেশ পাচ্ছে হাইড্রোক্লোরোকুইন

২০ লাখ ট্যাবলেট দিবে ভার

0
600

বাংলাদেশকে ২০ লাখ হাইড্রোক্লোরোকুইন (এইচসিকিউ) ওষুধ দিচ্ছে ভারত। এ ওষুধটি করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কিছু ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা রাখছে। ভারতের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রেও ইতোমধ্যে ওষুধটির কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে।

ভারতের এনডিটিভি জানিয়েছে, ভারত সরকার ১৩টি দেশকে প্রথম পর্যায়ে হাইড্রোক্লোরোকুইন ওষুধটি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও এ তালিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, জার্মানি, ব্রাজিল, নেপাল, ভূটান, শ্রীলংকা, আফগানিস্তান, মালদ্বীপ, বাহরাইন, ডমেনিকান রিপাবলিক ও সিসিলিস।

ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক হাইড্রোক্লোরোকুইন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর ভারতীয় সিদ্ধান্ত জানার পর নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বলেছেন, মোদী সতিকার অর্থেই একজন ভালো মানুষ।

গত মার্চ মাসেই যুক্তরাষ্ট্র ভারতের কাছে এইচসিকিউ ট্যাবলেট চেয়েছিল। সেই অনুযায়ী ভারত ইতোমধ্যেই ৩৫ লাখ ৮২ হাজার এইচসিকিউ যুক্তরাষ্টে পাঠিয়েছে।

এইচসিকিউ ট্যাবলেট প্রস্তুত করতে ভারতের কাছে ৯ মেট্রিক টন কাঁচামাল রয়েছে। এর মধ্য থেকে ব্রাজিলকে প্রথম চালানে শুন্য দশমিক ৫৩ মেট্রিক টন কাঁচামাল দেয়া হবে। দ্বিতীয় চালানে ব্রাজিল ও কানাডা পাবে ৫০ লাখ করে ট্যাবলেট। এছাড়া দ্বিতীয় দফায় জার্মানিকে দেয়া হবে ৫০ লাখ ট্যাবলেট। প্রথম দফায় জার্মানিকে দেয়া হচ্ছে দেড় মেট্রিক টন কাঁচামাল।

দিল্লির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ ২০ লাখ, নেপাল ১০ লাখ, আফগানিস্তান ৫ লাখ এবং ভূটান ও মালদ্বীপ ২ লাখ করে ট্যাবলেট পাবে। দ্বিতীয় কিস্তিতে শ্রীলংকাকে দেয়া হবে ১০ লাখ ট্যাবলেট।

বিশ্বে হাইড্রোক্লোরোকুইনের যে চাহিদা রয়েছে ভারত একাই তার ৭০ শতাংশ উৎপাদন করে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ভারত সরকার হাইড্রোক্লোরোকুইন ও প্যারাসিটামল ট্যাবলেট রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতের কাছে হাইড্রোক্লোরোকুইন চেয়েও পায়নি। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর বাণিজ্যিক অবরোধের হুমকি দেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই হুমকির পর ভারত ৩৫ লাখ ৮২ হাজার ট্যাবলেট যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছে। এরপর অন্যান্য দেশকেও হাইড্রোক্লোরোকুইন সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। এ প্রসঙ্গে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন, মানবতার কথা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে প্যারাসিটামল ও হাইড্রোক্লোরোকুইনের মত ওষুধ যথাযথ পরিমাণে আমাদের প্রতিটি প্রতিবেশী দেশকে সরবরাহ করা হবে। যে সব দেশ করোনায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেখানেও আমরা এই ওষুধ সরবরাহ করবো।