মাহবুবকে মনে পড়ে?

0
687

রহমান মুস্তাফিজের মন্তব্য প্রতিবেদন: মাহবুব মতিন। আমার বন্ধু। পরিচয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায়। সখ্যতা টিএসসিতে। সখ্যতা ঠিক কখন বন্ধুত্বে পরিণত হয়েছে বলা মুশকিল। সবাই আমাদের মানিকজোড় বলতেন।

ভারত সফরে তোলা ছবি

বন্ধুত্বের একটা বড়ো কারণ ছিল, আমরা দু’জনই কবিতা লিখতাম। কবিতা পড়তাম। কবিতায় বাস করতাম। তবে কবিতায় আমার ঘরানা ছিল রাজনৈতিক। রোমান্টিক কবিতাতেও ছুঁয়ে যেত গণতান্ত্রিক আন্দোলন অথবা সাম্যের জয়গান। মাহবুব রাজনীতি সচেতন ছিলেন। সমর্থন করতেন জাসদ ছাত্রলীগ।তার কবিতার পুরোটা জুড়েই থাকতো নিঃসর্গ আর ভালোবাসায়। ভালোবাসার বিষয়ে মাহবুব একটু উদার ছিলেন। সারাক্ষণই ভালোবাসায় ডুবে থাকতেন। তার স্বপ্নের জালগুলোও ছিল রঙিন।

১৯৯৬ সালে আমি আজকের কাগজ হয়ে যুক্ত হই বার্তা সংস্থা বাংলাদেশ নিউজ সার্ভিস (বিএনএস)-এ। কলেজ জীবনের বন্ধু সারোয়ার হোসেন (বর্তমানে এটিএন নিউজের বার্তা সম্পাদক) মগবাজারে বিএনএস অফিসে নিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন শান্তণু দা’র (শান্তণু চৌধুরী, বর্তমানে ডিবিসি’র বার্তা সম্পাদক) সাথে। এরপর ৬ মাস কাটিয়ে দিলাম বিএনএস-এ। সংস্কৃতিমনা, লিটলম্যাগ আন্দোলনে সম্পৃক্ত শান্তণু দা’র আগ্রহের কারণে সাংস্কৃতিক বিটেও কাজ করতে হয়। মাহবুব ততোদিনে দৈনিক সংবাদে প্রদায়ক হিসেবে কাজ করতে শুরু করেছেন। সোহরাব ভাই (কবি সোহরাব হোসেন, বর্তমানে দৈনিক প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক) তখন দৈনিক সংবাদের জলসা পাতার দায়িত্বে। সেখানে দুই কবির বন্ধুত্ব হলো। সোহরাব ভাই মাহবুবকে জলসা পাতায় কাজে লাগালেন।

আজকের কাগজে তখন কালচারাল বিটে কাজ করেন নৃপেণ বিশ্বাস, নৃপেণ দা। মাহবুব সংবাদে। আমি ততোদিনে ইউএনবি-তে। নিউজ এডিটর জহুরুল ইসলাম টুকু ভাই আর চিফ সাব-এডিটর শান্তণু দা’র কারণে আমিও কখন পলিটিক্যাল বিটের পাশাপাশি সমানতালে কালচারাল বিটও করে যাচ্ছি। নৃপেণ দা, মাহবুব আর আমি তখন সারাদিন একসাথে কাটাই। তখন কালচারাল বিটে আমাদের নাম হয়ে যায় ত্রিরত্ন। ইত্তেফাকের রেজানুর রহমান ভাই (এখন আনন্দ আলোর সম্পাদক), দিনকালের মাহমুদা চৌধুরী আপা (এখন অবসর জীবন কাটাচ্ছেন), জনকণ্ঠের আশীষ-উর রহমান শুভ ভাই (বর্তমানে প্রথম আলো-তে)-ই আমাদের ত্রিরত্ন বলে বেশি ডাকতেন।

বিশ্ববিদ্যালয় করিডোরে বন্ধুদের সাথে (ডান থেকে দ্বিতীয়)

১৯৯৬ সালে অস্কার পুরস্কার বিতরণের দিনে ঢাকায় বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পীরা অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেন। মূল আয়োজক বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। সাথে ছিল প্রযোজক সমিতি ও ডিরেক্টর্স গিল্ড। অনুষ্ঠানের ভেন্যু জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণ। সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা। রাত ১০টা বেজে গেছে। অজ্ঞাত কারণে অনুষ্ঠান শুরু হচ্ছে না।

সে সময় আধুনিক সুযোগ সুবিধা তেমন ছিল না। এমনকি সেলফোন যুগও শুরু হয়নি বাংলাদেশে। সিটিসেল তখন হাতে গোনা কিছু আছে। আর আছে পেজার। অনুষ্ঠান শেষে অফিসে গিয়ে রিপোর্ট জমা দেয়ার সময়ও শেষ। লাস্ট এডিশনে সর্বোচ্চ একটা ছবি ধরানো যেতে পারে, নিউজ নয়। তাই আয়োজকদের তাগাদা দিতে হলো। আয়োজকরা দেরির জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন না। বরং কবরী সারোয়ার (বর্তমানে সারাহ কবরী), মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা)-সহ কয়েকজন সাংবাদিকদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করলেন।

নিজের গড়া সংগঠন ‘ছোটরাই’ এর অফিসে

শিল্পী সমিতির নেতাদের দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে আমরা অনুষ্ঠান থেকে চলে আসি। পরদিনের পত্রিকায় অনুষ্ঠানের পরিবর্তে আয়োজকদের অব্যবস্থাপনা ও দুর্বলতা নিয়ে দেশের সব সংবাদপত্রে নিউজ হলো। এর পরদিন দুপুরে আমরা টিএসসি-তে নাট্য সংগঠন সড়ক-এর রিহার্সেল রুমে একত্রিত হলাম। সেখানে সিদ্ধান্ত হলো কালচারাল রিপোর্টার্স ফোরাম গঠনের। দৈনিক পত্রিকা ও বার্তা সংস্থার কালচারাল বিটের রিপোর্টাররা এর সদস্য হবেন। প্রদায়করা হবেন সহযোগী সদস্য। সাপ্তাহিক ও পাক্ষিক পত্রিকার সম্পাদকদের চিঠি দেয়া হলো, তার প্রতিষ্ঠান থেকে যেন একজনকে সদস্য হওয়ার জন্য মনোনয়ন দেয়া হয়।

কমিটি হলো। সভাপতি হলেন রেজানুর রহমান। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়া হলো নৃপেণ বিশ্বাসের ওপর। তিনি যেহেতু আগ্রহী না, তাই যুগ্ম-সম্পাদক আমাকে করা হলো সংগঠনকে এগিয়ে নেয়ার জন্য। সহ-সভাপতি হলেন মাহমুদা চৌধুরী ও আশীষ-উর-রহমান শুভ। মাহবুব হলো সাংগঠনিক সম্পাদক। কোষাধ্যক্ষ হলো ইনকিলাবের সালাহউদ্দিন বাবলু।

নৃপেণ দা, মাহবুব আর আমি তখন শিল্পকলা একাডেমিতে নিয়মিত যাই। সে সময়ের মহাপরিচালক সঙ্গীতজ্ঞ আজাদ রহমানের সাথে আমার দারুণ সখ্যতা। তাকে পটিয়ে কালচারাল বিটের রিপোর্টারদের জন্য ৪ মাস মেয়াদী একটা কোর্সের আয়োজন করে ফেললাম। মাহবুব সে কোর্সে দারুণ মনযোগী ছাত্র ছিলেন। কোর্সে ক্লাস নিয়েছিলেন আজাদ রহমান, কামাল লোহানী, রওশন জামিল, শিল্পী খোরশেদ আলম, নজরুলগীতি শিল্পী সোহরাব হোসেনের মত গুণীজনরা। প্রশিক্ষকদের মধ্যে সবচেয়ে জুনিয়র ছিলেন নাট্যশিল্পী এসএম মহসীন (সে সময় একাডেমির উপ-পরিচালক) ও নৃত্যশিল্পী জিনাত বরকতউল্যাহ (সে সময় একাডেমির নাচের শিক্ষক)। ওই কর্মশালায় একাডেমির জনসংযোগ কর্মকর্তা আ বা ম ছালাউদ্দীন (বর্তমানে অবসর জীবন কাটাচ্ছেন) মাহবুব মতিন ও আমাকে দারুণ সহযোগিতা দিয়েছিলেন।

ডাকসু ক্যাফেটারিয়ায় বন্ধুদের সাথে (সবার ডানে)

২০০১ সালের জানুয়ারিতে যুক্ত হলাম চ্যানেল আইয়ে। চ্যানেল আই তখনও সংবাদ শুরু করেনি। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম তখন বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্যাকেজের আওতায় নাটক, টেলিফিল্ম ও ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে রাজত্ব করছে। এ সময় ফরিদুর রেজা সাগর ভাই ও শাইখ সিরাজ ভাই পরিকল্পনা করলেন প্যাকেজের আওতায় সংবাদ পরিবেশনের। প্রতিদিন বিকেল ৪টায় চলতি খবর নামে ৫ মিনিটের সংবাদ থাকবে বিটিভিতে। আমি তখন সদ্য ভোরের কাগজ ছেড়েছি। যুক্ত হলাম চ্যানেল আইয়ের সাথে। অনুষ্ঠান বিভাগে থাকা মামুনুর রহমান খান (বর্তমানে আরটিভির বার্তা উপ-প্রধান), রাশেদ কাঞ্চন (বর্তমানে ব্যবসায়ী), নাদিরা কিরণ (এখন এটিএন বাংলার বার্তা সম্পাদক) ও তানভীর আহমেদ অন্তু (লন্ডন প্রবাসী) আর বাইরে থেকে আসা আমি শুরু করলাম সংবাদ টিম গোছানোর প্রাথমিক কাজ।

মাহবুব মতিন তখন দৈনিক সংবাদ ছেড়ে বেকার। শান্তিনগর মোড়ে এক বিকেলে তাকে পাকড়াও করলাম। সরাসরি বলে দিলেন, সাংবাদিকতা করতে হলে সেটা পত্রিকাতেই করা উচিত। টেলিভিশন সাংবাদিকতা কোন সাংবাদিকতাই নয়। দেশে তখন বেসরকারি টিভিতে সংবাদ মানে শুধু একুশে টিভি। চ্যানেল আই ও এটিএন বাংলা অনুষ্ঠান নির্ভর চ্যানেল।

‘ছোটরাই’-এর কর্মীদের সাথে

মাহবুব রাজি হলো না চ্যানেল আইতে যুক্ত হতে। হাটখোলায় ইত্তেফাকে গিয়ে ধরলাম রেজানুর ভাইকে। বললাম, তার ভালো না লাগলে চ্যানেল আই ছেড়ে আবার পত্রিকায় ফিরবে। এখন বেকার থেকে লাভ কি?

মাহবুব তখন একেবারে বেকার তা বলা যাবে না। সঙ্গীত বিষয়ক একটা ম্যাগাজিন বের করছিল। ২/৩টি সংখ্যা প্রকাশ করে। কিন্তু বিজ্ঞাপনের টাকা তুলতে পারছিলেন না। হকারদের টাকাও আসেনি। সময়টা পুরোই প্রতিকূলে।

রেজা ভাই মাহবুবকে টিএসসি-তে ধরলেন। বললেন, চ্যানেল আই-তে কাজ শুরু করো। আমরাও এর মধ্যে পত্রিকায় কোন ব্যবস্থা করা যায় কিনা দেখি।

এরপর মাহবুবকে একদিন চ্যানেল আই অফিসে এনে সাগর ভাই ও শাইখ ভাইয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলাম।

মাহবুব চ্যানেল আই-তে যুক্ত হলো ২০০১ সালের মার্চ মাসে। তারপর কতো কাহিনী। লাখো-কোটি স্মৃতি। চ্যানেল আই-তে শুরু করলেন ক্রাইম বিট। পরে যুক্ত হলেন সন্তোষ মণ্ডল (প্রয়াত)। এরপর এলেন আরেফীন ফয়সল (বর্তমানে চ্যানেল আইয়ের অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর)। তিনজন মিলে চ্যানেল আইয়ের ক্রাইম টিমকে নিয়ে গেলেন অন্য উচ্চতায়।

মাহবুবের কথা লিখে শেষ করা যাবে না। কানসাটে বিদ্যুত আন্দোলনে মাহবুব মতিন। রাজধানীতে বাবা-ছেলের ২৩৯ টুকরো লাশের সংবাদ সংগ্রহে মাহবুব মতিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গোলাগুলি? সেখানেও মাহবুব মতিন। আপাদমস্তক একজন সাংবাদিক ছিলেন মাহবুব মতিন। ছোট্ট একটি ঘটনা দিয়ে মাহবুবের সাংবাদিকতা জীবনের কথা শেষ করছি।

এরশাদ-বিদিশা’র বিয়ে বিচ্ছেদের সময় বিদিশার একটি এক্সক্লুসিভ সাক্ষাতকার নিয়েছিলেন মাহবুব মতিন

২০০৬ সালের ২ মার্চ সিলেট থেকে জেএমবি প্রধান শায়খ আবদুর রহমান গ্রেফতার হলেন। তার আগে ১ তারিখ থেকে র‌্যাব বাড়িটি ঘিরে রেখেছিল। মাহবুব শুরু থেকেই ঘটনাস্থলে। ১ তারিখ দিবাগত রাতে চ্যানেল আইয়ের নাইট শিফটের ইনচার্জ ছিলেন সুধীর কৈবর্ত্য দাস, সুধীর দা। আমাদের তখন তীব্র রিপোর্টার সংকট। তাই আমি মাঝে মধ্যেই একটানা দিন ও রাতের শিফটে কাজ করি। সেদিন রাতেও আমি অফিসে। ভোরে, আনুমানিক ৬টার দিকে মাহবুব ফোন করে বললেন, রহমান… আজই কিছু একটা ঘটবে বলে মনে হচ্ছে। জানতে চাইলাম, কখন ঘটবে। মাহবুব বললেন, সময়টা জানতে পারছি না। মনে হচ্ছে ঘন্টাখানেকের মধ্যেই ঘটবে।

জিজ্ঞেস করলাম, বাকি রিপোর্টারদের কি অবস্থা? জানালো, এনটিভি’র লাইভ টিম ফজরের আজানের কিছুক্ষণ আগে চলে গেছে। বাকিরা আরও আগেই হোটেলে ফিরেছে। এ মুহূর্তে অন্য কোন টিভির কেউ নেই। শুধু মাহবুব একা।

বললাম, রেডি থাকেন। আমরাই ব্রেক করবো।

ফেসবুকে মাহবুব মতিনের সব শেস স্ট্যাটাস। এই স্ট্যাটাসটি দেয়ার আগে মাহবুব তার আইডি-তে নাম পরিবর্তন করে। মাহবুব মতিন নামের পরিবর্তে আইডি’র নাম রাখে সুখী মানুষ।

সুধীর দা সকাল ৭টার নিউজের রানডাউন সাজাচ্ছিলেন। সকালের বুলেটিন ছিল ১৫ মিনিটের। বললাম, দাদা, মাহবুবের ফোন লাইভ রাখেন। অন্য নিউজ কমিয়ে দেন। পাবলিক আজ এটাই খাবে। দাদা বললেন, আগে কিছু ঘটুক তারপর দেখা যাবে। শেষ পর্যন্ত লিড স্টোরি হিসেবে মাহবুবের ফোন লাইভ রাখা হলো।

মাহবুব প্রায় ৪ মিনিট ফোনো লাইভে ছিলেন। তারপর প্রডিউসার সিলেট আইটেম থেকে বেরিয়ে যান। ৪/৫ মিনিট পর মাহবুবকে আবার ফোন করে সব শেষ অবস্থা জানতে চাইলাম। মাহবুব খুব উত্তেজিত। বললেন, অপারেশন শুরু হবে বলে মনে হচ্ছে। শেল্টার নিয়ে র‌্যাব এগুচ্ছে।

নিউজ শেষ হতে তখনও ৫/৬ মিনিট বাকি। দাদাকে বললাম আবার ফোনো লাইভে যেতে। দাদা অস্বীকৃতি জানালেন। এরপর পেশাগত জীবনের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ কাজটি করলাম। দাদার নির্দেশ উপেক্ষা করে পিসিআর-এ বললাম এক্ষুনি মাহবুবকে কানেক্ট করেন। আমি না বলা পর্যন্ত ফোনো লাইভ চলবে।

মাহবুবকে আবার কানেক্ট করা হলো। সুধীর দা চরম ক্ষেপলেন। আমার সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করার হুমকি দিলেন। কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে লাইভ চালিয়ে গেলাম প্রায় ১০/১২ মিনিট। শায়খ আবদুর রহমানকে র‌্যাবের হেফাজতে গাড়িতে তোলা পর্যন্ত লাইভ অব্যাহত রাখলাম।

সেদিন দ্বিতীয় দফার ফোনো লাইভের সময় শায়খ রহমান গ্রেফতার না হলে আমার চাকরি কোনভাবেই রক্ষা হতো না। লাইভ শেষে মাহবুব নিজেই ফোন করলেন। আবেগে কেঁদে ফেললেন। ঢাকা থেকে যাওয়া ১৫/১৬ জন রিপোর্টারের সবাই ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পরেছেন। শুধু মাহবুব ক্যামেরাম্যানকে সাথে নিয়ে জেগে ছিলেন এবং ঐতিহাসিক মুহূর্তটির একক স্বাক্ষী হলেন।

‘পাসওয়ার্ড’ টেলিফিল্মে ক্রিকেটার হাবিবুল বাশার সুমনকে দৃশ্য বুঝিয়ে দিচ্ছেন পরিচালক মাহবুব মতিন

আগেই বলেছি, মাহবুব কবিতা লিখতেন এবং পড়তেন। একটি সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন। নাম ‘ছোটরাই’। শিশুদের নিয়ে মঞ্চনাটক করতেন। ২০০৭ সালে ভারতের চেন্নাই গিয়েছিলেন তার দল নিয়ে। বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে তার লেখা নাটক মঞ্চস্থ করেছিলেন সেখানে।

মাহবুব মতিন একবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)-তে নির্বাচন করেছিলেন। নির্বাচিত হয়েছিলেন গবেষণা সম্পাদক পদে।

একটি টেলিফিল্ম নির্মাণ শুরু করেছিলেন। ফরিদুর রেজা সাগরের লেখা ‘পাসওয়ার্ড’ নামের টেলিফিল্মটিতে অভিনয় করেছিলেন পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, রোকেয়া প্রাচী, হাসান মাসুদ, ক্রিকেটার হাবিবুল বাশার সুমন, অহনা এবং ১৬ জন শিশু। টেলিফিল্মটির নির্মাণ কাজ শেষ করে যেতে পারেননি। তার মৃত্যুর পর ইমপ্রেস টেলিফিল্ম তা শেষ করে সম্প্রচার করে।

শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয় মাহবুব মতিনকে। কিন্তু তার এই কবরটি সংরক্ষণ করা যায়নি।

২০০৯ সালের ১০ অক্টোবর দিনটি আমার জন্য অন্যরকম এক কষ্টের দিন। আমি তখন যমুনা টিভি-তে ডেপুটি এডিটর হিসেবে কাজ করি। দুপুরে খাওয়ার জন্য কেন্টিনে যাচ্ছিলাম। সে সময় চ্যানেল আই থেকে ডেপুটি অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর তারিকুল ইসলাম মাসুম ফোন করে জানালেন মাহবুব নেই। কান্নার কারণে মাসুম এর বেশি কিছু জানাতে পারেননি।

সাথে সাথে যমুনা টিভি’র নির্বাহী পরিচালক শাহ আলমগীর ভাইকে (প্রয়াত) জানালাম। আলমগীর ভাই, আউট পুট এডিটর শাকিল আহমেদ (বর্তমানে একাত্তর টিভি’র হেড অব নিউজ), অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর মামুনুর রহমান খান, প্রযোজক সৈয়দ মিরাজুল ইসলাম পলাশ (এখন নিউজ টোয়েন্টি ফোর-এ)-সহ আমরা সিদ্ধেশ্বরীতে মাহবুবের বাসায় রওনা হলাম।

মাহবুব অ্যাজমা রোগী ছিলেন। ৯ অক্টোবর রাতে অফিস থেকে বাসায় ফিরেছিলেন ১২টার দিকে। তার একমাত্র ছেলে মৌন প্রিয় আর স্ত্রী শাহীন ছিল শান্তিবাগে শশুর বাড়িতে। ঘুমের মধ্যেই শ্বাসকষ্টে মারা যান মাহবুব।

আজ ১০ অক্টোবর ২০২০ তারিখ। মাহবুবের মহাপ্রয়াণের একাদশ বার্ষিকী। মাহবুব যেখানেই থাকুক, ভালো থাকুক।

মাহবুব মতিনের কানসাটের বিদ্যুৎ আন্দোলনের নিউজের অংশ বিশেষ (ভিডিও):

https://www.facebook.com/mahbubmatin/videos/29576070200