মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র নিয়ে বিভ্রান্তি

2
1849

স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। এর অধিকাংশই পেয়েছে দর্শকপ্রিয়তা। আবার কিছু চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি স্পর্শ করে। তবে তা সামগ্রিক বিচারে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নয়। বিতর্ক আছে তারেক মাসুদের মুক্তির গান নিয়েও।

তারেক মাসুদ (২০১১ সালের ১৩ আগস্ট সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত) মুক্তির গান নিজের পরিচালনায় নির্মিত চলচ্চিত্র হিসেবে মুক্তি দেন। সারাদেশে আয়োজন করেন প্রদর্শনীর। মূলত ফরাসি চিত্রগ্রাহক লেয়ার লেভিন মুক্তিযুদ্ধের সময় শিল্পীদের সাথে ঘুরে ঘুরে তাদের অনুষ্ঠান ধারণ করেন। শিল্পী মুক্তিযোদ্ধারা ক্যাম্পে ক্যাম্পে ঘুরে গান গেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের উজ্জীবিত করতেন।

স্বাধীনতার প্রায় তিন দশক পর তারেক মাসুদের সাথে যোগাযোগ হয় লেয়ার লেভিনের। লেভিন তার ধারণ করা সমস্ত ফুটেজ দিয়ে দেন তারেক মাসুদকে। তারেক মাসুদ দম্পতি সেই ফুটেজ সম্পাদনা করে প্রামাণ্য চলচ্চিত্র হিসেবে মুক্তি দেন।

কোনগুলো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র, আর কোনগুলো লয় তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের সক্রিয় সংগঠক মীর শামসুল আলম বাবু তার ফেসবুক টাইমলাইনে একটি পোস্ট দেন। তাতে তিনি বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া কয়েকটি চলচ্চিত্র সম্পর্কে লেখেন।

তিনি লিখেছেন, “মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র নিয়ে বিভ্রান্তি –
অনেক দর্শক অন্য ছবিকে মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র বলে থাকে। সাধারণ দর্শকের কথাও মানা যেতে পারে কিন্তু গবেষক? অনেক গবেষকদের মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র নিয়ে লেখা পড়লেই মনে হয় উনারা না দেখেই গবেষণা করেন বা শুধু কপি পেস্ট করেন।
১) জহীর রায়হানের ‘জীবন থেকে নেয়া’ (১৯৭০) ও ফকরুল আলমের ‘জয় বাংলা’ (১৯৭২) মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র নয়, মুক্তি সংগ্রামের কাহিনী বলা যায়।
২) কবির আনোয়ারের “স্লোগান” (১৯৭৩) মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র নয়।
৩) নিয়াজ ইকবালের “আজও ভুলিনি” (১৯৭৫) – মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নয়।
৪) আব্দুস সামাদের “সূর্যগ্রহণ” (১৯৭৬) ও “সূর্য সংগ্রাম” (১৯৭৯) মুক্তিযুদ্ধের নয়।
৫) আলমগীর কবিরের “রুপালী সৈকতে” (১৯৭৯) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নয়।
৬) তানভীর মোকাম্মেলের “হুলিয়া” (১৯৮৫) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নয়।
৭) তারেক মাসুদের ”মাটির ময়না” (২০০২)কে পুরোপুরি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছবি বলা যায় না।

2 COMMENTS

  1. মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগী হওয়া জরুরী।

    • প্রতিবাদ হচ্ছে। তবে মন্ত্রণালয়ের নিজ উদ্যোগে তালিকা সংশোধন করা উচিত। আবেদন কেন করতে হবে?

Comments are closed.