শফিউল আলমের হলফনামা

ঢাকা-১০ আসনের উপ-নির্বাচন

0
1009

ঢাকা-১০ আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই প্রার্থী নির্বাচন কমিশনে হলফনামা জমা দিয়েছেন। তাতে তারা তাদের সম্পদের হিসাব উল্লেখ করেছেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী জানিয়েছেন তার ১৬টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে তার নিজস্ব কোন গাড়ি নেই। অন্য দিকে, বিএনপি প্রার্থী জানিয়েছেন, তার কোন ঋণ নেই এবং তিনি গাড়ির মালিক। দুই প্রার্থীর আয় ব্যয়ের হিসেবে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিএনপি প্রার্থীর চেয়ে বেশি অর্থ-বিত্তের মালিক।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. শফিউল আলম ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি। তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৬টি। তিনি এমকম পাস করেছেন। তার নামে কোন মামলা নেই।

নির্বাচন কমিশনে দেয়া হলফনামায় শফিউল ইসলাম জানান, তার বার্ষিক আয় ৩৯ লাখ ৭১ হাজার ৬১২ টাকা। এর মধ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মানি হিসেবে আয় করেন ২২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। এছাড়া ব্যাংকে থাকা এফডিআরের লভ্যাংশ ও বোর্ড মিটিংয়ের সম্মানী বাবদ বাৎসরিক আয় ১৭ লাখ ১৩ হাজার ৬১২ টাকা।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী শফিউল ইসলামের স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ১৪ কোটি ২৫ লাখ ৬১ হাজার ১৬৪ টাকার। স্ত্রীর নামে রয়েছে ৫৮ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭১ টাকার সম্পদ। এছাড়া ২৬ লাখ টাকা দামের একটি টয়োটা গাড়িও রয়েছে স্ত্রীর নামে। তবে তার নিজের নামে কেনা কোন গাড়ি নেই।

শফিউল ইসলাম হলফনামায় তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোরও উল্লেখ করেন। তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে: ওনাস অ্যাপারেলস লিমিটেড, ওনাস গার্মেন্টস লিমিটেড, ওনাস ডিজাইন লিমিটেড, ওনাস কনস্ট্রাকশন লিমিটেড, ওনাস শিপিং লাইন্স লিমিটেড, মজুমদার শিপিং লিমিটেড, অটোসিরামিক কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, এ আর স্টাইল লিমিটেড, ওডিসি ড্রেসেস লিমিটেড, প্রিন্টো প্যাক লিমিটেড, প্যাট্রিশিয়ান নিট ওয়্যারস লিমিটেড, সিটাডেল অ্যাপারেলস লিমিটেড, জে বি এস গার্মেন্টস প্রাইভেট লিমিটেড, অ্যাকোয়া মেরিন ড্রেজিং লিমিটেড, ইয়াংতাই ইন্ডাস্ট্রিজ (বিডি) লিমিটেড এবং পি ওয়াই গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং (বাংলাদেশ) কোম্পানি লিমিটেড।

শফিউল আলমের ঋণ রয়েছে এক কোটি ৯৫ লাখ ৬৫ হাজার ৯২০ টাকা। এর মধ্যে মো. মাহমুদুর রহমান খানের কাছ থেকে জামানতবিহীন ঋণ এক কোটি ১১ লাখ ১৩ হাজার ৯৬৫ টাকা। এছাড়া এনবিএল সিকিউরিটিস লিমিটেড থেকে নেয় ঋণের পরিমাণ ৩৪ লাখ ৫১ হাজার ৯৫৫ টাকা এবং ভেঞ্চার এনার্জি রিসোর্স লিমিটেডের কাছ থেকে জামানতবিহীন ঋণ নিয়েছেন ৫০ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।  তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যা করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন করেন এবং মেয়র নির্বাচিত হন। তার পদত্যাগের কারণে আসনটি শূণ্য হয়। শূণ্য আসনে উপ-নির্বাচনের জন্য ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২১ মার্চ ভোটগ্রহণ হবে। এতে সবগুলো কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে।