সরকারি সিদ্ধান্তই কার্যকর হোক

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন অভিভাবকরা

0
1135

বাণিজ্যিক আচরণ ছেড়ে শিক্ষার্থীবান্ধব আচরণ করার জন্য ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অভিভাবকরা। তারা সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, স্কুলগুলোকে একটি কাঠামোর মধ্যে পরিচালনার জন্য ইউজিসি’র আদলে কমিশন গঠন করে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য। একই সাথে, সরকারি নির্দেশনা মেনে ২০১৭ সালে প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল পেরেন্টস ফোরাম (বিইএমএস পিএফ) আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে অভিভাবকরা এ সব কথা বলেন।

অভিভাবকদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে বলা হয়, করোনাকালে একদিকে অভিভাবকদের আয় কমেছে। কিন্তু স্কুলগুলো পুরো সার্ভিস না দিলেও টিউশন ফি করছে না। বরং টিউশন ফি দিতে না পারা শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস থেকে বের করে দেয়া হচ্ছে। এতে কোমলমতি শিশুরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেশের ভবিষ্যত শিশুদের স্বার্থে পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ জরুরী।

সাধারণ সম্পাদক আ জ ম সালাহউদ্দিন তার লিখিত বক্তব্যে করোনাকালে টিউশন ফি কমানোর জন্য প্রস্তাব করেন, তিনটি ক্যাটাগরিতে স্কুলগুলোকে ভাগ করে এই সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে। সংগঠনের পক্ষ থেকে তিনি প্রস্তাব করেন, ‘এ ক্যাটাগরি’র স্কুল ৬০ শতাংশ, ‘বি ক্যাটাগরি’র স্কুল ৪০ শতাংশ এবং ‘সি ক্যাটাগরি’র স্কুল ৩০ শতাংশ টিউশন ফি কমাতে পারে।

তিনি টিউশন ফি দিতে না পারা শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস থেকে বের করে না দিতে অনুরোধ জানান। একই সাথে তাদের ছাত্রত্ব যেন বাতিল করা না হয় সে বিষয়েও আহ্বান জানান।

স্কুল পরিচালনা কমিটিতে নির্বাচিত দুইজন অভিভাবক প্রতিনিধি রাখার দাবি জানানো হয় অভিভাবকদের পক্ষ থেকে।

এছাড়াও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের জন্য স্বাধীন রেগ্যুলেটরি কর্তৃপক্ষ গঠন করা, শক্তিশালী শিক্ষানীতি প্রণয়ন এবং যৌক্তিক টিউশন ফি নির্ধারণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয় মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানটিতে।

সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় যে দুইটি সার্কুলার জারি করেছে তার জন্য শিক্ষামন্ত্রী ডাক্তার দীপুমনিকে ধন্যবাদ জানানো হয় অনুষ্ঠানে।

বক্তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে বলেন, আমরা কেউ কারও প্রতিপক্ষ নই। পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে এই ক্রান্তিকাল অতিক্রম করতে হবে। তাই করোনাকালে (মাচ মাস থেকে) টিউশন ফি কমানো এবং অনলাইন ক্লাস থেকে শিক্ষার্থীদের যেন বের করে দেয়া না হয়।

বিইএমএস পিএফ-এর সভাপতি একেএম আশরাফুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মিট দ্য প্রেসে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম সালাহউদ্দিন।

করোনাকালে সন্তানের স্কুলের বাণিজ্যিক মনোভাবের অভিজ্ঞতা জানান মঞ্জুর সাকলায়েন, প্রকৌশলী ফেরদৌস আজম খান, উম্মে সালমা আলম নুপূর, রিয়াজ আনোয়ার, শমী ইব্রাহিম, সাবরিনা ইসলাম, মিজ মোর্শেদা, অবসরপ্রাপ্ত মেজর মিজানসহ আরও কয়েকজন অভিভাবক।