সাফল্য ব্যর্থতার এক বছর

0
2109

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে গেল বছরের ৭ জানুয়ারি সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। টানা তৃতীয় ও চতুর্থ বারের মত প্রধানমন্ত্রী হন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। আজ সরকার গঠনের এক বছর পূর্ণ হলো।

সরকারের প্রথম বছরটি কেটেছে সফলতা ও ব্যর্থতা নিয়ে। তবে সাফল্যের তালিকাটা দীর্ঘ।

২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জন শপথ নেন মন্ত্রী হিসেবে। এর বাইরে ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী ও ৩ জন উপমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

২০২৪ সালে বর্তমান সরকারের মেয়াদ পূর্ণ হলে শেখ হাসিনা হবেন সরকার প্রধান হিসেবে ২০ বছর দায়িত্ব পালনকারী প্রথম প্রধানমন্ত্রী। অবশ্য ইতোমধ্যেই একটানা ১১ বছরসহ মোট ১৬ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনন্য রেকর্ড করেছেন তিনি।

গত এক বছরে পদ্মাসেতুসহ মেগা প্রকল্পগুলোর উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। মেট্রোরেল প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলেও কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক।

এছাড়া দুর্নীতি ও ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানে সরকারের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিতর্কিত নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে দলমত নির্বিশেষে সবার প্রশংসা পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

প্রবল বিরোধিতার মুখেও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

অর্থনীতিকে চাঙ্গা রেখে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে ব্যাংক ঋণে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতেও নেয়া হয় বেশ কিছু পদক্ষেপ। আবরার, নুসরাত ও রিফাত হত্যার বিচারে দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা নেয়াও ছিল উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করায় সচিবালয়ের নতুন ভবনের কার্যাদেশ বাতিল করা ছিল বাংলাদেশের ৪৮ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে সাহসী সিদ্ধান্ত।

তবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের বালিশ কাণ্ডসহ বেশ কিছু দুর্নীতির ঘটনা সরকারকে বিব্রত করেছে।

সরকার প্রধান শেখ হাসিনার ক্লিন ইমেজের কারণে বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের নেতিবাচক কথা ও কাজগুলো শেষ পর্যন্ত সরকারের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারেনি।

রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম প্রকাশ করা ছিল সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় বিব্রতকর ঘটনা। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার মেয়ে সায়মা হোসেন পুতুলের আবেগকে পুঁজি করে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ছিল আরেকটি দুঃখজনক ঘটনা। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট মাত্র কয়েকজন ব্যক্তি গত এক বছরে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন প্রতিবন্ধীদের নাম ব্যবহার করে।

সরকারের এক বছরে বেশ কিছু সফলতার স্বীকৃতি বিরোধী পক্ষও দিচ্ছে। তবে তারা বলছে, সরকার বিরোধীদের মত প্রকাশে বাধা দেয়ার পাশাপাশি দমনপীড়ন চালাচ্ছে।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২শ’ ৯৮টি আসনের মধ্যে ২শ’ ৫৭টিতে জয় পায়। শরীকদের আসনসহ জোটের মোট আসন সংখ্যা হয় ২শ’ ৮৮টি। অন্য দিকে বিএনপি ও তাদের সমমনাদের জোট পেয়েছে ৭টি আসন।

এর আগে, ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ঐকমত্যের সরকার গঠন করে। ২০০৮ সালে মহাজোট ও ২০১৪ সালে ১৪ দলীয় জোটের সরকার গঠন করেন শেখ হাসিনা। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে জোটগতভাবে নির্বাচন করলেও আওয়ামী লীগ একাই সরকার গঠন করে।